দুষ্ট-মিষ্ট রোমান্টিক গল্প---- তুই_শুধুই_আমার, রিয়া আর কোনো কথা না শুনে সজীবের রুমে দৌড়ে চলে গেলো! সজীব রুমে গিয়ে ড্রেসিং নিয়ে এসে সজীবের হাতে,
.jpeg)
গল্প---- তুই_শুধুই_আমার
#লেখকঃ Nirob Hossain
--আচ্ছা এইবার তো বলেন!(রিয়া)
--হুম আমার রুমে টেবিলের ওপরে রাখা আছে!(সজীব)
.
রিয়া আর কোনো কথা না শুনে সজীবের রুমে দৌড়ে চলে গেলো! সজীব রুমে গিয়ে ড্রেসিং নিয়ে এসে সজীবের হাতে ব্যন্ডিজ করে দিল!
.
--আমার না অনেক ভালো লাগছে!(সজীব)
--ভালো লাগছে মানে?(রিয়া)
--এই যে আমার হাত না কাটলে তো তুমি এইভাবে আমার যত্ন নিতে না!(সজীব)
--আপনি কি সত্যি পাগল?(রিয়া)
--হুম,,শুধু তোমার জন্য!(সজীব)
--আচ্ছা বাসাই কি খাওয়ার কিছু আছে?(রিয়া)
--না আচ্ছা আমি বাইরে গিয়ে খাবার কিনে আনছি!(সজীব)
--আপনাক কোথাও যাওয়া লাগবে না বাসাই কি কাচা বাজার আছে?(রিয়া)
--হুম!(সজীব)
--রান্না ঘর কোন দিকে বলেন আমি রান্না করছি!(রিয়া)
--না না থাক তোমাকে রান্না করা লাগবে না!আমি বাইরে থেকে কিছু কিনে আনছি!(সজীব)
--বেশি কথা বলবেন না চুপচাপ শুয়ে থাকেন!(রিয়া)
.আরও পড়ুন 👇👇
১) কি আছে একজন নারীর শরীরে ?তারপরে সজীব আর কিছু বললো না! রিয়া রান্না ঘরে চলে গেলো ! যা যা ছিল তাই রান্না শেষ করে সজীবের রুমে গেলো ! রিয়া রুমে গিয়ে দেখলো সে ঘুমিয়ে পড়েছে ! সজীবের গায়ে হাত দিয়ে ডাকতে গিয়ে দেখলো সজীবের অনেক জ্বর এসেছে! রিয়া এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না!কিন্তু বাসায় তো ঔষধও নেই কি করবে এখন!এইসব ভাবতে থাকে রিয়া আবার এই পোশাকে তো বাইরেও যেতে পারবে না!কি করবে এখন যে কিছু বুঝতেছেই না !তখনি মনে পরলো সজীব তো কাল রাতে মার্কেটে গিয়েছিল!দেখলো ব্যগগুলো পাশেই রাখা ছিল ব্যগ থেকে বের করে দেখতে পেলো ৩টা কালো বোরখা আর কিছু জামাকাপড়!তাড়াতাড়ি বোরখা পরে বাইরে চলে গেলো বাসার নিচেই র্ফামেসীর দোকান ছিলো তাই সেখানে থেকেই ওসুধ নিয়ে আবার চলে আসলো! তখন রিয়ার একটা কথা মনে পরছিল...
২) কীভাবে নিজেকে পরিবর্তন করা যায়?
৩) বউ যখন অবাধ্য হবে তখন কী করা উচিত?
৪) হিন্দুরা যদি পর্দা করতো, তাহলে কী হতো?
৫) পৃথিবীতে সবচাইতে সত্য কথা কোনগুলো ?
.
--গুন্ডাটাকে একা রেখে কোথায় যাওয়া যাবে না!১দিনেই তার ওপরে কেমন মায়া জমে গেছে!
ওষুধ নিয়ে তার কাছে আসলাম! ওই ওঠেন এইবার কিছু খেয়ে ওষুধ খেয়ে নিন!(রিয়া)
.
কিন্তু সজীবের কোনো শব্দ পেলো না! রিয়া কিছুটা ভয় পেয়ে তার মাথাই হাত দিয়ে ডাকতে লাগলো! কিছুক্ষন পরে সে চোখ খুললো!
.
--কিছু খেয়ে নিন!(রিয়া)
.
সজীব ঘুম থেকে ওঠে খেতে গিয়েও খেতে পারলো না!কারন তার হাতে তো ব্যন্ডিজ করা!
রিয়া সেটা বুঝতে পেরে তাকে খাওয়ানোর জন্য তার মুখের সামনে খাবার নিয়ে গেল!
.
--নিন খেয়ে নিন!(রিয়া)
--বিশ্বাস করো রিয়া তোমাকে অনেক ভালোবাসি তুমি কোথাও যেও না আমাকে ছেড়ে তাহলে আমি মরেই যাবো!(সজীব)
--আচ্ছা আমি কোথাও যাচ্ছি না এখন খেয়ে নিন!(রিয়া)
.
তারপরে সজীব আর কিছু বললো না!খাওয়া শেষ করে ওষুধ খাওয়ে দিলো ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে গেল!
.
--বুঝলাম না এই মানুষটা এমন কেন !কিভাবে একজনকে এতো ভালোবাসতে পারে! দেখলাম সে ঘুমিয়ে গেছে !হঠাৎ তার বিছানার পাশে একটা ডায়েরী দেখলাম!সেটা হাতে নিয়ে তার পাশে বসে পড়তে লাগলাম!
ডাইরীর প্রথম পৃষ্ঠাতেই আমার নাম দেওয়া তাই পড়ার ইচ্ছাটা একটু বেশিই কাজ করছে,তাই পড়তে লাগলাম!
--আমি সজীব সেন। লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে ঘুরে বেড়াই!বাবা মা আছে কিন্তু তাদের ভালোবাসা কখনো পাইনি! তারা দেশের বাইরেই থাকে সব সময়,আমার দেশে থাকতে ভালো লাগে তাই এইখানেই থাকি !তেমন কোনো ভালো বন্ধু নেই যারা আছে তারা শুধু আমার টাকা আছে বলেই আছে!একা একা থাকতে থাকতে এখন আর খারাপ লাগে না !কিন্তু হঠাৎ একদিন একটা মেয়েকে রাস্তাই একজন বৃদ্ধা কে সাহায্য করতে দেখি তাকে সবার থেকে একটু আলাদা মনে হয়!তাই তার সর্ম্পকে জানার জন্য খোজ নিলাম খোজ নিয়ে জানতে পারলাম তার নাম রিয়া! আমার পাশের গলিতে থাকে!আস্তে আস্তে তাকে ভালো লাগতে শুরু করে!আর ভালো লাগা থেকে কবে যে ভালোবেসে ফেলেছি সেটা বুঝতেই পারি নাই!তাই তাকে ভালোবাসার কথাটা বলার জন্য তার কাছে যাই কিন্তু সেই অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসতো ! তার সাথে সুখে থাকবে বলে আমি না বলা ভালোবাসার কথা আমার মনের মধ্যেই রাখলাম!কিন্তু একদিন জানতে পারলাম সেই ছেলেটা প্লেবয় ! তখন আমার রিয়ার কথা ভেবে অনেক কষ্ট পেলাম!তখনি আমি রিয়াকে ফোন দিলাম আর তার সাথে কথা বললাম যে তার বফ একটা খারাপ ছেলে কিন্তু রিয়া সেটা না শুনে আমাকে অনেক অপমান করে তাই আমি তার ফোনে তার বফের ছবি দিয়ে সিমটা বন্ধ করে রেখেছিলাম!
--তার মানে এই সেই ছেলে যার জন্য আমি একটা খারাপ ছেলের হাতে থেকে বেচে গিয়েছিলাম!এই ছেলেকে কতো খুজেছি কিন্তু কোথায় পাইনি!..(রিয়া)
--এইসব কথা বলে রিয়া আবার পড়তে লাগলো! এইভাবেই চলছিল আমার জীবন একদিন একটা মার্কেটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ একটা নীল শাড়ী দেখে দাড়িয়ে পড়লাম ! কারন যে নীল শাড়িটা কিনছিল সেটা রিয়া ছিল!কিন্তু সে না কিনেই চলে গেল !পরে আমি ভিতরে গিয়ে জানলাম যে সেই শাড়িটা তারা অন্য কাষ্টমারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে !আমি তাকে অনেক বুঝিয়ে নিয়ে আসলাম কিন্তু ততোক্ষনে রিয়া চলে গিয়েছিল!নীল শাড়ির সাথে নীল কাচের চুড়িও কিনে ছিলাম!যদি কখনো তার সাথে দেখা হয় তখন তাকে দিয়ে দিবো!কিন্তু সেটা আর হলো না !সেইদিন রাতে মা আমাকে ফোন দিয়ে আমেরিকায় যেতে বললো বাবা নাকি অসুস্থ!তাই আমি চলে গেলাম!কিন্তু না আমাকে মিথ্যা বলে তারা আমাকে আমেরিকায় নিয়ে আসলো!
আর তাদের বিজন্যেস পার্টনারের মেয়ের সাথে আমাকে বিয়ে দেওয়ার কথা বললো কিন্তু আমি না করে দেই এবং বলি আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি কিন্তু তারা আমার কোনো কথা না শুনে আমাকে একটা রুমের মধ্যে বন্ধ করে রেখে দিলো !আর আমাকে ৭ দিন না খাওয়ে রাখে!পৃথিবীর এমন বাবা মা আছে কি না সেটা আমি জানি না!তবে পরে জানতে পারি তারা আমার আপন বাবা মা নয়!আমার বাবা মা অনেক আগেই মারা যায়!তারা ছিল আমার মামা মামি!আমার সম্পতির জন্যই এতো ভালো সেজে এসেছে এখনো!রাতদিন বন্ধ রুমে থাকতে হতো আমাকে আর না খেয়ে কিন্তু আমার তেমন খারাপ লাগতো না কারন আমার কাছে রিয়াকে দেওয়া সেও শাড়ি আর চুড়ি ছিল!সেটা দেখেই রাত পার করতাম!কিন্তু একদিন শুনলাম যে মামা মামি আমাকে মেরে ফেলে আমার সম্পতি তাদের নামে করে নিবে !তখন আমি অনেক কষ্ট পেয়ে ছিলাম !তখন আমি এইসব না ভেবে তাদেরকে সব সম্পতি দিয়ে পালিয়ে দেশে চলে আসলাম!যে দেশে কেউ না থাকুক রিয়া তো আছে তার সাথেই সারাজিবন কাটিয়ে দিতে পারবো !কিন্তু দেশে এসে শুনি রিয়ার নাকি......।
COMMENTS