valobashar golpo, premer golpo, bangla romantic golpo, top world romantic love story,
%20@Golpo%20Blog%20(6).jpeg)
গল্পঃ "অপ্রাপ্তি" পর্বঃ- ০২
লেখাঃ রাইসার আব্বু।
কথা কিছু বলছে না। বুঝতে পারলাম কথা কাঁদছে' এই পর্যন্ত বলেই চুপ করে থাকলাম।চশমাটা খুলে চোখ দু'টি মুছে নিলাম। সেই বিশ বছর আগের ঘটনা।বুকের ভেতরটা কেমন যেন করছে। চুলগুলো পাক ধরেছে।আজ আমি বিসিএস প্রাপ্ত লেকচারাল। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক।- সমস্ত ক্লাসে পিনপিনে নীরবতা। সবাই নিশ্চুপ হয়ে শুনছে। এমন সময় ' হৃদয় নামে একটা ছেলে বলল' স্যার তার পর কি হলো? আপনি কি কথা ম্যাডাম কে পেয়েছিলেন? আচ্ছা স্যার আপনিও কি ম্যাডাম কে ভালবাসতেন।আমি চশমাটা পড়ে আবারো বলতে লাগলাম'যখন দেখলাম কথা কাঁদছে। তার কান্না গুলো কেন যেন সহ্য করতে পারছিলাম। আবার এটাও পারছিলাম না যে কথার চোখের পানিটা মুছে দেয়। কারণ শিক্ষকতা যে মহান পেশা।- তাই কথাকে বললাম, আজ তাহলে উঠি, কাল আসব।-না স্যার যাবেন না।- স্যার, আপনি তো সব বুঝেন কিন্তু আমি কেন পাগলামী করি সেটা বুঝেন না?- জানেন স্যার একটা মেয়ে কখন শাড়ি পড়ে? কার জন্য শাড়ি পড়ে?- কথা কি বলছ এসব, শাড়ি তো সখ করে পরে।-আপনি আসলেই কিচ্ছু বুঝেন না।- হুম ঠিক ধরেছ! আর যে বুঝে না তাকে বুঝাতে চেয়ো না।- আজ উঠি কাল আসব।- স্যার আপনি কিছু না পড়ালেও আমার সামনে যতটুকু প্রাইভেট পড়ানোর সময় ততটুকু সময় বসে থাকবেন।- আমি কিছু না বলে হনহনিয়ে বেরিয়ে আসলাম। কথার বিষন্ন মুখটা বারবার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠছে।- কথাদের বাসা থেকে বের হতেই, ফয়সালের সাথে দেখা!- আরে দোস্ত কি অবস্থা? তোকে চিন্তিত মনে হচ্ছে কেন?- কিছু না কেমন আছিস?- ভালো, আর তোর কথা অফিসে বলেছি।- ধন্যবাদ দোস্ত।- ওই হারামি ধন্যবাদ কেন দিচ্ছিস।- আচ্ছা দোস্ত আজ তাহলে আসি।- মেসে এসে শুয়ে শুয়ে ভাবছি, টিউশনিটা ছেড়ে দিতে হবে। দিনদিন কথার পাগলামীটা বেড়েই চলেছে।- আগে এমন ছিল না মেয়েটা। আমাকে একদম সহ্য করতে পারত না। বিশেষ করে, ওদের বাসায় যে নাস্তা দিত সে নাস্তা খাওয়াটাও কেন জানি সহ্য করতে পারত না। একদিন তো মেয়েটা রাগ করে বলেই ফেলেছিল ' স্যার রাতে তো আর আপনার খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আল্লাহ আপনার মুখে রুচি দিয়েছে বলতে হবে। কেননা টুস্ট-বিস্কুট যেভাবে খান মনে হয় অমৃত্তি খাচ্ছেন'।- আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম, ইংরেজি প্যারাগ্রাফটা লিখ।- হ্যাঁ লিখছি। আর হ্যাঁ প্রতিদিন এক শার্ট পরে পড়াতে আসবেন না। আমার বান্ধবীরা এটা-সেটা বলে।-পরের দিন সকালে কথা যখন কলেজে যায় তখন রাতুলের বেস্টফ্রেন্ড জুঁই কথাকে বলে সরি রে দোস্ত!- কি হয়েছে জুঁই সরি কেন বলছিস?- কারণ তোর হোম টিউটর, যে প্রতিদিন তোদের বাসায় একি শার্ট পরে যায়। এটা নিয়ে এবং বাসায় নাস্তা খাওয়া নিয়ে যে তোর সাথে মজা করেছি সেজন্য সরি রে!- আরে দুর! বাদ দে তো, আসলেই একটা ক্ষ্যাত । বাবা কি জন্য যে এইরকম একটা টিউটরের কাছে পড়তে দিল?- না ক্ষ্যাত না রাজ ভাইয়া সত্যি মহান একটা মানুষ।- মানে প্রেমে-টেমে পড়লি নাকি?- ধ্যাত কি বলিস। জানিস রাজ ভাইয়ার টাকায় তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, ছোটবোনের লেখাপড়া এবং পুরোটা পরিবার চলে। রাতে যে তোদের বাসায় নাস্তা করে, এরপর আর ডিনার করে না। দোস্ত না জেনে লোকটাকে নিয়ে কত মজা করেছিরে!- আরে তুই কেমনি জানলি?- রাতুলের কাছ থেকে।- রাতুল কে?- বাবার বন্ধুর ছেলে। রাতুল আমার চেয়ে পাঁচ বছরের বড় হলেও কেমন জানি বন্ধু হয়ে যায়। ওর কাছে সব শুনেছি।- কথা কিছু বলল না কলেজ ছুটি হলে, বাসায় এসে, কাজের মেয়েটাকে বলল' ফেলানী স্যারকে আজ নাস্তায় বিয়িরানী দিবি '- জ্বি আপা।- আজ প্রথম কথা কারো জন্য অপেক্ষা করছে। সময় যেন যাচ্ছে না।- সন্ধায় যখন কথাদের বাসায় গতকালের শার্টটা পরেই টিউশনিতে আসলাম কথা কেমন জানি মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকাল।- চেয়ার টেনে বসেই বললাম' ইংরেজী বইটা দাও। '- কথা বইটা হাতে দিয়েই বলতে লাগল' স্যার বলছি না প্রতিদিন এক শার্ট পরে আসবেন না?' তার পরও একই শার্ট পরে এসেছেন?- মুচকি হেসে বললাম' এই শার্টটা আমার পছন্দের তো তাই এটাই প্রায় সবদিনই পরি।- কথা কাঁদছে! কিসের জন্য কাঁদছে বুঝতে পারছি না।- কি হলো কাঁদছ কেন?- স্যার আমাকে ক্ষমা করে দেন। না জেনে আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।- আশ্চর্য তুমি তো কোন অপরাধ করোনি তবে কেন ক্ষমা চাচ্ছো?- স্যার আমি আপনাকে না জেনে কত কথাই শুনিয়েছি। নাস্তা নিয়ে বাজে কথা বলেছি। আমাকে ক্ষমা করবেন তো?- ওহ্ আচ্ছা! এই বিষয়?ক্ষমা করতে পারি এক শর্তে।- কিসের শর্ত স্যার?- প্রতিদিন ঠিকমত পড়া শিখতে হবে।- কালো মেঘের আড়ালে যেমন করে সূর্য উঁকি দেয় তেমনি, কথা মুহূর্তে হেসে দিল।- তারপর থেকেই কথার পাগলামী। আর সেই পাগলামীটা ভালবাসার রূপ নিয়েছে। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় খেয়াল নেই। ফজরের আজান শুনে ঘুম ভেঙে গেল। বিছানা থেকে উঠে অযু করে মসজিদে চলে গেলাম।- দুপুর বেলা ফয়সাল জানাল, চাকরিটা এক প্রকার কনফার্ম। আট ঘন্টা ডিউটি। তিনদিন পর দেখা করতে বলেছে। এদিকে দু'টা টিউশনি শেষ করে সন্ধ্যায় কথাদের বাসায় গেলাম। কথা বসে আছে।আমি গিয়ে চেয়ার টেনে বসলাম। কথার খেয়াল নেই।যখন বই বের করতে বললাম। তখন দেখি কথা কাঁদছে।- কি ব্যাপার বাসায় কি বকা দিয়েছে?- স্যার আমি বিয়ে করব না।- মানে?- স্যার বাবার বন্ধুর ছেলে আমেরিকা থাকে। তার সাথে বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে আমেরিকায় পাঠায় দিবে সেখানে নাকি পড়া-লেখা করাবে।- আলহামদুল্লিলাহ ভালো কথা।-কিন্তু স্যার আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচব না। আমি আপনাকে ভালবাসি।- আমি স্তব্ধঃ হয়ে গেলাম। কিছু বলতে পারছি না।' কি হলো স্যার চলেন না আমরা পালিয়ে যায়। ' বলেই আমার হাতটা ধরল। আমি কথার হাতটা ছাড়িয়ে ঠাস করে কথার গালে চড় বসিয়ে দিলাম। সুন্দর গালটাতে পাঁচ আঙুলের ছাপ বসে পরেছে। এতদিনের টিউশনীতে আজ প্রথম কথার গায়ে হাত তুললাম। কথার চোখের কাজলগুলো লেপ্টে গেছে।কথার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না।-আরো মারেন তবুও আপনাকে ভালবাসি। আপনাকে ছাড়া বাঁচব না। কেন বুঝেন না, কেন এত পাগলামী করি। জানেন আমি শাড়ি পরতে পারি না তার পরও আপনার জন্য শাড়ি পরি। আপনি সেদিন বাসায় নাস্তা করেননি তাই আমিও করিনি। রাতুল ভাইয়াকে দিয়ে আপনাকে খাইয়িরে আমি খেয়েছি। আমি সত্যিই আপনাকে ভালবাসি! সত্যিই!- ভালবাসা কি বুঝ? আমাকে কয়েকদিনের ভালবাসার জন্য যে বাবা-মা ষোল বছর লালন- পালন করল তাদের ভুলে যাবে? ভালবাসা কি সেটা যে বাবা-মার মুখে চুনকালি মাখা? শোন তোমাকে কস্মিনকালেও ভালবাসা সম্ভব না। তুমি আমার ছাএী। তোমাকে পড়াতে এসেছি, তবে তোমাকেও ভালোওবাসি তবে সেটা ছাএী হিসেবে।তাই বলছি পাগলামী বন্ধ করো।- আমি আঙ্কেলকে বলে দিব তোমাকে পড়ানো আমার দ্বারা সম্ভব না। কথাটা বলে বের হয়ে আসলাম।- পরের দিন আঙ্কেলের সাথে দেখা করে বললাম ' কথাকে আর পড়াতে যেতে পারব না '!আমার একটা পার্ট টাইম চাকরি হয়েছে।- ওহ্ আচ্ছা বাবা। আর সামনে শুক্রবার কথার এ্যাংগেজমেন্ট! তুমি এসো কেমন?- জ্বি আঙ্কেল চেষ্টা করব।-পরের দিন ফয়সাল এসে জানাই তাদের অফিসে চাকরিটা হয়ে গেছে।- এদিকে একদিন অফিস থেকে আসার সময় বৃষ্টিতে ভিজে যায়। মেসে আসার পর থেকেই হাঁচি আসছে। বিছানায় শুয়ে আছি। এমন সময় রাতুল এসে বলল' কথা 'এসেছিল।- ওহ্ আচ্ছা!- রাজ মেয়েটা তোকে বড্ড বেশি ভালবাসে। মেয়েটাকে কষ্ট দিস না প্লিজ।- হুম জানি। আর হ্যাঁ কালকে ওর এ্যাংগেজমেন্ট। রাতুল কিছু বলতে চেয়েও বলল না।- পরের দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে চেয়েই শরীর নিয়ে বিছানা থেকে উঠতে পারছি না। বুঝতে পারলাম শরীরে জ্বর এসে গেছে। তাই ওভাবে শুয়েই আছি চোখ বন্ধ করে। খুব কষ্ট হচ্ছে। হঠাৎ কারো ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেলাম। চোখ খুলেই চমকে ওঠলাম। মিনমিন করে বললাম কথা তুমি? তোমার না আজ এ্যাংগেজমেন্ট।- হুম সেটা আপনার ভাবতে হবে না । কিছু খেয়েছেন?ওমা! আপনার তো জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। এই বলে মাথায় জলপট্টি দিতে লাগল। আমার আর কিছু খেয়াল নেই।- চোখ খুলে দেখি আমি হসপিটালে। আমার শিউয়ে কথা বসে আছে। চোখ থেকে মেয়েটার এখনো বৃষ্টির ফোঁটার মতো টপ-টপ করে পানি পড়ছে।- হঠাৎ আমার মনে পড়ল, আজ তো শুক্রবার। কথার তো আজ এ্যাংগেজমেন্ট। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি বিকাল ৩টা। মাথাটা ধরে এল এসব ভাবতে ভাবতে।- এই কথা তোমার না এ্যাংগেজমেন্ট আজ?যাও বাসায় যাও। হয়ত তোমাকে আঙ্কেল আন্টি খুঁজছে।- আমি তোমায় রেখে কোথাও যাবো না। মরতে হয় তোমাকে নিয়েই মরব বাঁচত হয় তোমাকে নিয়েই বাঁচব। আমি বাসায় যাবো না আর।- কথা প্লিজ পাগলামী করো না। তুমি যদি বাসায় না যাও আমার মরা-মুখ দেখবে।- কথাটা বলার আগেই কথা আমার মুখটা ধরে ফেলল।' প্লিজ আপনি এমন কসম দিবেন না আমায়। আমি যাচ্ছি '। বলে কথা কান্না করতে করতে দৌড়ে হসপিটাল থেকে বের হয়ে গেল। চোখ থেকে নিজের অজান্তেই জল গড়িয়ে পড়ল।- কথা চলে গেলে রাতুল এসে বলল' দোস্ত কেন শুধু শুধু মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছিস? সাথে নিজেও কষ্ট পাচ্ছিস।- দোস্ত, আমি যে শিক্ষক।আমার কাছে যে কথা আমানতস্বরূপ ছিল। কিভাবে তা খেয়ানত করি। ভাল যে সবাইকে বাসা যায় না। কখনো কখনো ভালবাসাকে বুকের মাঝেই দাফন করে দিতে হয়।- অন্যদিকে কথা বাসায় যেতেই তার মা কথাকে বলে, তোর না আজ এ্যাংগেজমেন্ট কোথায় গিয়েছিলি।- বান্ধবির বাসায়।- এতকিছু শুনতে পারব না। যা রেডি হয়ে নে।- এদিকে কথার এ্যাংগেজমেন্ট হয়ে যায়।- আমি অনেকটা সুস্থ। যতদিন হসটপিটালে ছিলাম প্রত্যেক দিনই কথা এসেছিল।- হসপিটাল থেকে চারদিন পর মেসে যায়। তারপর আবার অফিসে জয়েন। দিনগুলি ভালোই চলছিল। একদিন অফিস থেকে ফিরে মেসে আসতেই দেখি কথা বসে আছে রুমে।- রুমে যেতেই কথা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল। আমি কথাকে ছাড়াতে চেয়েও ছাড়াতে পারছি না। বুঝতে পারলাম কথা কাঁদছে। জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল' আমাকে প্লিজ আপনি বিয়ে করেন। পরশু আমার বিয়ে। আমি কাল আপনার কাছে ভোর সকালে আসব। সবকিছু গুছিয়ে। আর হ্যাঁ যদি আপনি আমার সাথে না জান তাহলে, পরের দিন খবরের কাগজে আমার আত্মহত্যার হেডলাইনটা পাবেন। কি বলছ এসব পাগল হয়ে গেলে?- কথা কিছু না বলেই চলে গেল।আমি ফ্লরে বসে পড়লাম। জানি না আজকের রাতটা পার হলে কি হবে। কথা যা বলল সত্যি সত্যি ওকে বিয়ে না করলে যদি তাই করে। মাথাটা ধরে আসছে।- রাত ৯টা এশার নামায শেষ করে যখন মেসে আসলাম। তখন রাতুল আমার হাতে পাঁচশ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলল ' দোস্ত রাতের বাসেই বাড়ি চলে যা! দোস্ত বাড়িতে কি হয়েছে।রাতুল কিছু বলছে না। হঠাৎ আমায় জড়িয়ে ধরে বলল' দোস্ত আঙ্কেল আর নেই।- রাতুলের কথাটা কলিজার এসে লাগল। কি করব বুঝতে পারছি না। রাতুল আমাকে বাসস্টপ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলো।- বাসে বসে বসে বাবার কথা ভাবছি আর কাঁদছি।- অন্যদিকে কথা তার কাপড় ব্যাগে ভরছে। সকাল হওয়ার আগেই বাসা থেকে পালাবে।- এ পর্যন্ত বলেই চোখের পানি মুছতে লাগলাম।সারা ক্লাস জুরে পিনপিনে নীরবতা।- হঠাৎ রিত্ত নামের একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে বলল' স্যার তারপর কি হলো?- আমি চোখের পানি মুছে আবারো বলতে লাগলাম'''''চলবে??
COMMENTS